নির্বাচনে প্রশংসিত সেনাবাহিনী, দ্রুতই ব্যারাকে ফেরার আভাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে সেনাবাহিনী। নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জানা গেছে, দায়িত্ব শেষ করে সেনাবাহিনী দ্রুতই ব্যারাকে ফিরে যাবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়লে ‘ইন অ্যাইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে মাঠে নামে। প্রায় এক বছর ছয় মাস ধরে তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করেছে। থানাগুলোর কার্যক্রম স্থবির থাকা ও পুলিশ নিরাপত্তাহীনতায় দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধ থাকাকালে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করে সেনাসদস্যরা। নির্বাচনের আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, কিশোর গ্যাং দমন, বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক অবরোধ সরাতে ভূমিকা রাখে তারা।
নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি বাড্ডা এলাকায় ২১টি অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় পৃথক অভিযানে বিদেশি পিস্তল, রিভলভার, গোলাবারুদ, মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। ভোটের দিন কেন্দ্র দখল প্রতিরোধ, ব্যালট ছিনতাই ঠেকানো, গণনায় বিশৃঙ্খলা রোধ এবং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ছিল সেনাবাহিনী।
সেনানিবাসের কন্ট্রোল সেন্টার থেকে নির্বাচনের দিন সার্বিক তদারকি করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোটের আগে, দিন ও পরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ফোর্স মোতায়েন ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার চাইলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। নির্বাচনে প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার এবং বিমানবাহিনীর তিন হাজার ৭৩০ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। ৬২ জেলা, ৪১১ উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে টহল ও যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনী ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র ও দুই লাখ ৯১ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে এবং ২২ হাজার ২৮২ জনকে আটক করে বেসামরিক প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। দুর্গম এলাকায় সামরিক হেলিকপ্টারে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সরঞ্জাম পরিবহনেও সহায়তা দেওয়া হয়েছে।


















