নগর জীবনে ফিরে আসছে হারিয়ে যাওয়া ‘চিঠির বন্ধুত্ব’
ডিজিটাল যুগে যেখানে এক ক্লিকে পৌঁছে যায় বার্তা, সেখানে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু তরুণ নতুন করে ফিরিয়ে আনছেন হারিয়ে যাওয়া চিঠি লেখার অভ্যাস। তারা ডাকের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলছেন, গল্প শেয়ার করছেন, এমনকি চিঠি সাজাচ্ছেন ছোট ছোট অঙ্কন, শুকনো ফুল, আর হাতে লেখা কবিতায়।
এই উদ্যোগের নাম ‘লেটার লাইভ’। এটি শুরু করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তিন বন্ধু—তন্ময়, সোহানা ও রুমানা। তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই—মানুষের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিগত সংযোগ ফিরিয়ে আনা। তন্ময় বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় কথাগুলো খুব দ্রুত আসে আর তত দ্রুত হারিয়েও যায়। কিন্তু হাতে লেখা চিঠি থাকে হৃদয়ে।”
চিঠির এই বন্ধুত্বে এখন যুক্ত হয়েছেন কয়েক শত তরুণ-তরুণী। কেউ পাঠাচ্ছেন উত্তরবঙ্গ থেকে, কেউ কক্সবাজারের উপকূল থেকে। ডাকবাক্সে ফিরে এসেছে কালি-ছোঁয়া খাম, ডাকটিকিট আর কৌতূহলের রঙ। অনেকেই বলছেন, চিঠি লেখা যেন মানসিক শান্তির এক নতুন ধরণ—যেখানে সময় নেয়া, ভাবা, অনুভব করা—সবই একসঙ্গে ঘটে।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারাও জানাচ্ছেন, এই উদ্যোগের কারণে কয়েকটি শহরে ব্যক্তিগত চিঠি প্রেরণ সামান্য হলেও বেড়েছে। তারা বলছেন, “এটা ছোট এক সূচনা, কিন্তু এতে পুরনো দিনের স্নিগ্ধতা ফিরে আসছে।”
ডিজিটাল স্ক্রিনের ঠান্ডা আলো পেরিয়ে, হাতে লেখা উষ্ণ শব্দগুলো আবারও মানুষকে কাছে টানছে। হয়তো আগামী দিনে ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আবার শোনা যাবে শহরের অলিতে-গলিতে।


















