দীর্ঘ দুই মাস পর আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করল কুয়েত
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর কুয়েত তাদের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক হামৌদ মুবারক জানিয়েছেন, বিমানবন্দরটি দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরে আসবে এবং এটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার প্রথম ধাপ।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইরানের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহত হন। পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
যুদ্ধের প্রভাবে কুয়েতের বিমানবন্দরটি কয়েকবার ইরানি হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে বিমানবন্দরের অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও নথিবদ্ধ করার কাজ সম্পন্ন করছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলে আকাশসীমা খোলার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আকাশসীমা ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকাকালীন কুয়েতি বিমানগুলোকে নিজেদের বন্দরে রাখার অনুমতি দেওয়ায় সৌদি আরবের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে কুয়েত সরকার। কুয়েত সিভিল এভিয়েশন অথরিটি আশা করছে, ধাপে ধাপে সব আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল শুরু হলে দেশের যোগাযোগ ও অর্থনীতি পুনরায় গতিশীল হবে। বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রেখে কার্যক্রম সচল করা হচ্ছে।



















