দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১১৬
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। থাইল্যান্ডে বন্যায় সহায়তাকারী দল ড্রোন ব্যবহার করে বন্যায় বিচ্ছিন্ন লোকজনের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে এবং হেলিকপ্টারে করে ছাদে আটকা পড়া লোকজনের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের পর সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছেছে। সুমাত্রা দ্বীপে উদ্ধারকর্মীরা তিনটি প্রদেশে ভূমিধস ও বন্যায় বিচ্ছিন্ন লোকজনের কাছে পৌঁছানোর জন্য লড়াই করছেন। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ৯টি প্রদেশ টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে, সেখানে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আরও হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
থাইল্যান্ড উদ্ধার প্রচেষ্টায় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী, হেলিকপ্টার ও নৌকা মোতায়েন করেছে। হাট ইয়াই শহরে পানি নামতে শুরু করেছে, যা যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও জরুরি সেবা চালু করতে সহায়ক হবে।
মালয়েশিয়ার সাতটি অঙ্গরাজ্যেও বন্যা দেখা দিয়েছে, দেশটিতে অন্তত দু’জন নিহত ও ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় শিবিরে গিয়েছে। সুমাত্রার ৬ কোটি মানুষের দ্বীপে ট্রপিক্যাল সাইক্লোনের আঘাতে প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে, সেখানে কমপক্ষে ১০০ জন নিখোঁজ। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই চরম বৈরী আবহাওয়া ফিলিপাইনের টাইফুন কোটো ও মালাক্কা প্রণালিতে সাইক্লোন সেনইয়ারের সক্রিয় সিস্টেমের পারস্পরিক প্রভাবে হতে পারে।

















