দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোকে যৌথ জলবায়ু ও পরিবেশ উদ্যোগের আহ্বান
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা নতুন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেই সময় আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠন করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এসডিপিআই-এর বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন “সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইন দি ইমারজিং ওয়ার্ল্ড ডিজ অর্ডার”–এ অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা বলেন, বায়ুদূষণ, প্লাস্টিক দূষণ, পানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু বিপর্যয়ের মতো সংকট মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়াকে এখনই সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি নদী শাসন, ন্যায্য পানি বণ্টন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ঘন-ঘন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহের পাশাপাশি ধীরগতির জলবায়ু বিপর্যয় যেমন লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশেই জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের ঘাটতি স্পষ্ট করে। তবে অর্থ না-ও আসলেও আমরা অপেক্ষা করব না; আমাদের জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সম্মেলনের বিষয়বস্তুর প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, শাসনব্যবস্থার নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক কাঠামো বর্তমানে সংকটে রয়েছে, বহুপাক্ষিকতা দুর্বল হচ্ছে এবং বৈষম্য, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যবস্থাকে নতুনভাবে গঠন করছে। শ্রীলঙ্কা থেকে নেপাল পর্যন্ত জনগণের বিক্ষোভ প্রমাণ করে বর্তমান শাসন মডেল জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ।


















