ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
আগামী ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। একই দিনে দুটি ভোট হওয়ায় পুরো নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনেরা। এজন্য কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রতি হাজার ভোটারের জন্য অন্তত ৪০টি বুথ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোববার ভয়েস নেটওয়ার্কের আয়োজনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এ বিষয়ে বক্তারা মতামত প্রদান করেন। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন ভয়েস নেটওয়ার্কের চেয়ারপারসন ও ডাকসু নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. জসিম উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক একরামুল হক সায়েম। প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাহাবুল হক।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পূর্বের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, নেতৃবৃন্দ, আমলা ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণভোটে সংস্কার প্রস্তাব পাস হলে এটি গণতন্ত্রকে আরও দৃঢ় করবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা লাভের পরও নির্বাচনি দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হয়নি। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তা সুষ্ঠু হবে না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব যুবায়ের বলেন, নির্বাচন কমিশন এখনও নিরপেক্ষ ও দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগে পক্ষপাতের ধারণা জনগণের মধ্যে রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা প্রয়োজন, যাতে কেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা রোধ করা যায়। একই দিনে দুটি ভোট হওয়ার কারণে কেন্দ্র ও বুথ সংখ্যা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সরোয়ার হোসেন তুষার বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন পর্যাপ্ত প্রচার করার কথা বললেও তা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। বিপুলসংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা নেই।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সেক্রেটারি সাইফুল হক বলেন, নির্বাচন রেফারির মতো হতে পারবে না, বিশেষ করে যদি সরকারের উপদেষ্টা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
ড. জসিম উদ্দিন বলেন, দুটি ভোট একই দিনে হলে অল্প বুথে বিপুলসংখ্যক ভোটারের সমাগমে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। এজন্য প্রতিটি হাজার ভোটারের জন্য অন্তত ৪০টি বুথের ব্যবস্থা করতে হবে।
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। অবৈধ টাকা ও অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত হওয়া রোধ করতে হবে।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট দল ও সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে হবে এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করতে হবে।



















