রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬| দুপুর ২:০৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত জনমত জরিপে

প্রতিবেদক
staffreporter
জানুয়ারি ১২, ২০২৬ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত জনমত জরিপে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত জনমত জরিপে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপ অনুযায়ী, বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার, আর জামায়াতে ইসলামির পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন ১৭ শতাংশ ভোটার, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জরিপে আরও দেখা যায়, ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশকে সমর্থন করছেন ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি)। প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারাটিভের যৌথ উদ্যোগে জরিপটি পরিচালিত হয়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য বিভাজন বিবেচনায় নিলে বিএনপির সম্ভাব্য সমর্থন দাঁড়ায় ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামির ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ। জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে দেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। ভৌগোলিক, শহর-গ্রাম ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্ট্রাটিফায়েড স্যাম্পলিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং ২০২২ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে পোস্ট-স্ট্রাটিফিকেশন ওয়েটিং প্রয়োগ করা হয়েছে।

জরিপে উঠে এসেছে, বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে ৭২ দশমিক ১ শতাংশ দলটির অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতাকেই সমর্থনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৪৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। পেশাভিত্তিকভাবে কৃষক (৪২ দশমিক ৬৭ শতাংশ) ও শ্রমিকদের (৪০ দশমিক ৬ শতাংশ) মধ্যে দলটির অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামির সমর্থকেরা দলটিকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সততার ভাবমূর্তির কারণে সমর্থন করছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। জামায়াত সমর্থকদের ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ ‘কম দুর্নীতি’ এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ ‘সততার ভাবমূর্তি’কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন সবচেয়ে বেশি; ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে দলটির সমর্থন ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ। উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের মধ্যেও জামায়াত এগিয়ে রয়েছে—স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে তাদের সমর্থন ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও দলটি এগিয়ে আছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির সমর্থনের পেছনে ‘জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা’কে প্রধান কারণ হিসেবে দেখেছেন ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থক। সিদ্ধান্তহীন ১৭ শতাংশ ভোটারের মধ্যে ৩০ দশমিক ১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, আর ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো মতামত দেননি। জরিপ পরিচালনাকারীরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

সার্বিকভাবে জরিপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনটি হবে একদিকে বিএনপির অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বার্তা, অন্যদিকে জামায়াতের সততা ও ন্যায়বিচারের মূল্যবোধ—এই দুই ধারার মধ্যে এক রাজনৈতিক ও দার্শনিক প্রতিযোগিতা। ভোটারদের বড় একটি অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। সংবাদ সম্মেলনে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মুশতাক খান এবং বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী একে এম ফাহিম মাশরুরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - রাজনীতি