তেহরানে বন্ধ থাকা নিজস্ব দূতাবাস পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিল ইতালি
মধ্যপ্রাচ্যে তিন মাস আগের তুমুল উত্তেজনার সময় ইরানের রাজধানী তেহরানে বন্ধ করে দেওয়া নিজেদের দূতাবাস পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। আগামী শুক্রবার থেকে তেহরানে ইতালির দূতাবাসের সব ধরনের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে এক প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন তিনি কূটনৈতিক মিশনটি পুনরায় চালুর এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে আঞ্চলিক তীব্র অস্থিরতার জেরে ইরানের রাজধানীতে নিজেদের কূটনৈতিক মিশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল ইতালি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে দূতাবাস পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতালির রাষ্ট্রদূত, অন্যান্য কূটনীতিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা খুব শীঘ্রই তেহরানে ফিরে যাবেন। পরবর্তীতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এই বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন বলেও জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতাকে একটি ‘‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি’’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আন্তোনিও তাজানি। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির যে একটি ক্ষীণ আলো দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই নতুন সমঝোতাকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় সব ধরনের সমর্থন জানাতে ইতালি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি, যা ইতালির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিনের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত সোমবার উভয়পক্ষ একটি ঐতিহাসিক রূপরেখা চুক্তি ঘোষণা করে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই শান্তি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


















