শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬| সন্ধ্যা ৬:০২

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নতুন সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদক
staffreporter
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ ২:১৫ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নতুন সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নতুন সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

বসন্ত শুরুর ঠিক দুদিন আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যারা বিশেষ করে দেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থবির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা।

বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপির আকার ৪৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশে উন্নীত করা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে উচ্চ খাদ্যমূল্য ও বণ্টনব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করা হবে নতুন সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান পরীক্ষা। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থামানো এবং লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনাকে আইএমএফের সহায়তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন সরকার। ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হলেও হুন্ডি প্রতিরোধ এবং শ্রম রপ্তানি খাতে দুর্নীতি দমন না করলে এই প্রবাহ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। এর পাশাপাশি ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ ঘটলে বাণিজ্যিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক খাত মেরামত করতে দ্রুত কার্যকর ও ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে তারেক রহমান সরকারের জন্য একটি জটিল পরীক্ষা। চীন বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী অংশীদার হলেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে তিক্ত হয়ে ওঠা সম্পর্ক মেরামত এবং আসিয়ানে যোগদানের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সাফল্য নির্ভর করছে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত তৈরি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে দক্ষতার সঙ্গে পা ফেলার ওপর।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - বানিজ্য ও অর্থনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত