ঢাকা–বেইজিং সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষের নির্দেশনায় হবে না চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের নির্দেশনায় চলবে না। তিনি এই মন্তব্য করেন রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক: এগিয়ে যাওয়ার পথ” শীর্ষক আলোচনায়। আলোচনা আয়োজন করেছিল সাবেক রাষ্ট্রদূতদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ফরমার অ্যাম্বাসেডরস (এওএফএ) এবং এতে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূতরাও উপস্থিত ছিলেন।
৫০ বছরের পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রায় চীনের সহযোগিতা পেতে পারে, সার্ক অকার্যকর থাকায় বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান ত্রিদেশীয় সুসম্পর্ক অঞ্চলের অগ্রগতিতে নতুন ভূমিকা রাখতে পারে। মার্কিন উদ্বেগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন ও আত্মনির্ভর এবং কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশনা ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। চীনের অবস্থান বাংলাদেশের স্বাধীন নীতিকে সমর্থন করা।
রোহিঙ্গা সংকট ও তিস্তা প্রকল্পসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগেও চীনের ভূমিকার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও সংকট সমাধানে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবে এটি একা সম্ভব নয়। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং এতে ১০০ কোটি ডলারের খরচ ধরা হয়েছে; প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে ৭–৮ বছর লাগবে। চট্টগ্রামে চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ৩০টি প্রতিষ্ঠান ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক জনগণের স্বার্থে এবং এটি আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত হবে। নির্বাচনের পরও দুই দেশের এই সহযোগিতা আরো এগিয়ে যাবে এবং বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

















