জুলাই গণহত্যার মামলায় মাহমুদুর রহমানের চার ঘণ্টার সাক্ষ্য
জুলাই গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সোমবার চার ঘণ্টার দীর্ঘ সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপট ও নানা ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেছেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, “মহান জুলাই ২০২৪ বিপ্লবে বাংলাদেশের ইতিহাসে নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট শাসক পতিত হয়েছে। এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সৃষ্টিতে একটি ম্যাটি কুলাস প্ল্যানিং, দেশীয় রাজনীতিবিদ এবং বিদেশি শক্তি—সবই যুক্ত ছিল।” সাক্ষ্যে তিনি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বই ‘দ্য কোয়ালিশন ইয়ার্স’ উদ্ধৃত করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে হাসিনার ক্ষমতায় আরোহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
তিনি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও অনিয়মের উদাহরণ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, সেনাবাহিনীকে ডিমরালাইজ করা, বিচার বিভাগকে দলীয়করণ, স্কাইপ কেলেঙ্কারি, শাপলা হত্যাকাণ্ড, তিনটি ভুয়া জাতীয় নির্বাচন, ঘুম খুনের সংস্কৃতি, জঙ্গি নাটক সৃষ্টি এবং তার ওপর ব্যক্তিগত নির্যাতনের কাহিনী। সাক্ষ্যে তিনি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সদস্যের নাম উল্লেখ করে তাদের ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মাহমুদুর রহমানের বক্তব্যে বলা হয়েছে, সরকারে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পিছনে বিভিন্ন বিভাগ, মিডিয়া ও রাজনীতিবিদ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিচার বিভাগে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন বিচারপতি খায়রুল হক, এসকে সিনহা, মোজাম্মেল হোসেন, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দীকি প্রমুখ। আইনজীবীদের মধ্যে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন সচিব দুলাল প্রমুখ। পুলিশের মধ্যে সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, বেনজীর আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাবেদ পাটোয়ারী, নুর মোহাম্মদ প্রমুখ।
নির্বাচন কমিশনের ভুয়া নির্বাচন ও সদস্যদের ভূমিকা, রাজনৈতিক নেতাদের—including জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোট—সামাজিক ও রাজনৈতিক সহায়তা, এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডও সাক্ষ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। মাহমুদুর রহমানের বক্তব্যে ভারতকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাকে তিনি শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পেছনের গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ডিজিএফআই, র্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী সরকারের জুলুমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন।
মাহমুদুর রহমান আগামীকাল বাকী সাক্ষ্য প্রদান শেষে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের জেরার জবাব দেবেন।



















