জি–৭ সম্মেলনে ছবি তোলা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ এবং কূটনৈতিক টানপোড়েন
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত গত সপ্তাহের জি-৭ সম্মেলনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছিলেন এবং বারবার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে বেশ বড় ধরনের কূটনৈতিক টানপোড়েন তৈরি হয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে স্থানীয় সময় শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আবারও তার দাবিতে অনড় থেকে লেখেন, মেলোনি ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের সময় বারবার তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এর পাশাপাশি ট্রাম্প মেলোনিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার মার্কিন উদ্যোগে ইতালি পাশে না দাঁড়ানোর কারণেই দেশটিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা এখন কমতির দিকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও ব্যক্তিগত আক্রমণের পর চুপ থাকেননি জর্জিয়া মেলোনিও। তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি পাল্টা পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিনা উস্কানিতে ট্রাম্পের এই ধরনের আক্রমণ একেবারেই অর্থহীন। মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ট্রাম্পের বন্ধু হওয়ার কারণে ইতালির কোনো লাভ হয়নি এবং তার জনপ্রিয়তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না।
মেলোনি আরও লিখেছেন, তার জনপ্রিয়তা মূলত ইতালির জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে এবং তিনি সবসময় ঠিক সেটাই করে এসেছেন। ট্রাম্পকে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে মাথা ঘামানোর পরামর্শ দিয়ে মেলোনি বলেন, তার নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের না ভাবলেও চলবে। এই ঘটনার রেশ ধরে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার নির্ধারিত মার্কিন সফর বাতিল করেছেন।


















