জাল সনদে সরকারি চাকরি: ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ওয়াজ মাহফিলের পরিচিত বক্তা ফখরুল আলম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ইসলামি বক্তা মোহাম্মদ ফখরুল আলম ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। কারণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিতে তার জমাকৃত বিএ (অনার্স) সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ফখরুল আলম ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ সহকারী সম্পাদক (৯ম গ্রেড) পদে যোগদান করেন। তিনি ২০০৮ সালে বিএ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জনের দাবি করে জাল সনদ দাখিল করেছিলেন। তার নিয়োগের আগে থেকেই ফাউন্ডেশনে তার যাতায়াত ও প্রভাব চলছিল, এবং ওই সময়ে তার নিয়োগ ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষানিয়ন্ত্রণ দপ্তর গত ১৩ অক্টোবর জানায়, ফখরুল আলমের পরীক্ষার ফলাফল ‘ফেল’ এবং জমাকৃত সনদ জাল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এরপর ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১ অক্টোবর তার বরখাস্তের অফিস আদেশ জারি করে। আদেশে বলা হয়েছে, “আপনার বৈধ সার্টিফিকেট না থাকা অবস্থায় অসত্য তথ্য দিয়ে নিয়োগ লাভ করেছেন; যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনি। অসদাচরণ ও প্রতারণার দায়ে ১৬ অক্টোবর থেকে আপনাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”
ফখরুল আলম সামাজিক মাধ্যমে ওয়াজ মাহফিল ও টেলিভিশন চ্যানেলে পরিচিতি পান। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও তিনি একাধিকবার বক্তৃতা দিয়েছেন। তার আলোচনায় প্রায়ই নৈতিকতা ও হালাল উপার্জনের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য থাকলেও নিজে জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, তার নিয়োগ প্রভাবশালী তদবিরের মাধ্যমে এবং চাপে হয়েছিল। এছাড়া সংস্থার আরও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সনদও জাল বা ত্রুটিপূর্ণ, যাদের বেশিরভাগ নিয়োগ হয়েছে সাবেক মহাপরিচালক শামীম মো. আফজালের সময়।



















