শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬| দুপুর ১:১৭

জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজনের অধ্যাদেশ অনুমোদন

প্রতিবেদক
staffreporter
নভেম্বর ২৬, ২০২৫ ৬:০৬ অপরাহ্ণ
জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজনের অধ্যাদেশ অনুমোদন

জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজনের অধ্যাদেশ অনুমোদন

অন্তর্বর্তী সরকার ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ এর খসড়া নীতিমালা অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই দেশের ভোটাররা প্রথমবারের মতো গণভোটে অংশ নিতে পারবেন। এই অধ্যাদেশে গণভোটের আয়োজন, ভোট গ্রহণ, গণনা ও প্রস্তুতির প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে এর আগে তিনটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে গণভোট আয়োজনের কোনো নজির নেই। ফলে প্রবাসী ভোটসহ প্রায় ১৩ কোটির বেশি ভোটারকে একসাথে পরিচালনার ইসির সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে এসেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করতে হলে ইসিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে।

গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতকৃত ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকাই গণভোটে ব্যবহার হবে। রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা জাতীয় নির্বাচনের মতোই গণভোট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটে চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ভোটারদের হ্যাঁ বা না ভোট দেওয়ার জন্য একটি মাত্র ভোট দেওয়া হবে।

প্রবাসী ভোটাররাও একই দিনে গণভোটে অংশ নিতে পারবেন। জাতীয় নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত সাদা ব্যালটের পাশাপাশি গণভোটের জন্য রঙিন ব্যালট ব্যবহার করা হবে। রঙিন ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য কালোর তীব্র কালি ব্যবহৃত হবে। ব্যালট ছাপানো হবে গর্ভমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস ও বিজি প্রেসে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, একই দিনে দুটি ভোটে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, শীতের প্রভাব এবং দুটি ব্যালটের কারণে ভোটগ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এক বুথে নারী ভোটারদের জন্য ৫০০ জন, পুরুষ ভোটারদের জন্য ৬০০ জন হিসাব করা হলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৩০০–৪০০ ভোটারের জন্য একটি বুথ হলে সুষ্ঠু ও দ্রুত ভোট গ্রহণ সম্ভব হতো।

গণভোটে চারটি মূল বিষয়ে ভোটারদের উত্তর দিতে হবে:
ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদ অনুযায়ী গঠিত হবে।
খ. আগামী সংসদ দুই কক্ষ বিশিষ্ট হবে এবং উচ্চকক্ষে সদস্যসংখ্যা প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে নির্ধারিত হবে।
গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা হবে।
ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, গণভোটের ব্যালটে ভোটাররা হ্যাঁ বা না ঘরে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সিল ব্যবহার করে ভোট প্রদান করবেন। নির্বাচনী ত্রুটির কারণে ব্যালট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দুটি ভোটের জন্য আলাদা ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - বানিজ্য ও অর্থনীতি