জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর সিরিয়ার আহমেদ আল-শারার হোয়াইট হাউস সফর নিশ্চিত
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, যার ফলে আগামী সপ্তাহে তার হোয়াইট হাউস সফরে আর কোনো বাধা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আহমেদ আল-শারা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মাধ্যমে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশটির ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, “এই ভোটের মাধ্যমে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা পাঠানো হলো যে, সিরিয়ায় আসাদের শাসনের অবসান ঘটেছে এবং দেশটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।”
আহমেদ আল-শারা মূলত নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন কারণ তিনি ইসলামপন্থি সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই সংগঠন একসময় আল-কায়েদার সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এইচটিএসকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দেয়।
নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব-এর ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “সিরিয়া যুক্তরাষ্ট্র এবং বন্ধু দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা সিরিয়া ও এর জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
বিবিসি জানিয়েছে, আগামী সোমবার আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ট্রাম্প আগে জানিয়েছেন, সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” অর্জন করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে রিয়াদ সফরের সময় ট্রাম্প ও শারার মধ্যে প্রথম বৈঠক হয়। বৈঠকের পর ট্রাম্প শারাকে “দৃঢ়চেতা নেতা” এবং “শক্ত অবস্থানের অধিকারী ব্যক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
উল্লেখযোগ্য, হায়াত তাহরির আল-শাম ২০১৬ সাল পর্যন্ত আল-কায়েদার সহযোগী ছিল। এরপর আহমেদ আল-শারা সংগঠনটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। আগামী সোমবারের হোয়াইট হাউস সফর এ বছর তার দ্বিতীয় সফর হবে। এর আগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রায় ছয় দশক পর প্রথম সিরীয় নেতা হিসেবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।


















