ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এনসিপির মাসব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচি
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে মাসব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দেশব্যাপী এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্টদের বিচার এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি জোরদার করা হবে। এসব দাবির পক্ষে রাজপথের পাশাপাশি সারা দেশের নাগরিকদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দল। এছাড়া ভারত সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা এবং পুশইন চেষ্টার প্রতিবাদে ‘সীমান্ত মার্চ’ নামে একটি লংমার্চ কর্মসূচি পালনের বিষয়টিও দলটির বিবেচনায় রয়েছে।
এনসিপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর গত বছরও প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে মাসব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল, যা ছিল দলটির সবচেয়ে সফল আয়োজন। বর্তমান সরকারের সময়ে সংস্কার বাস্তবায়ন এবং বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এবারও এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। দলীয় বৈঠকে ইতিমধ্যে দেশের ৫০টি স্থানে পথসভা করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে দলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, সংসদ সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।
এনসিপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, ৩৬ জুলাইজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়োজন হবে এই পদযাত্রা। নতুন সরকার আসার পর রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং গণহত্যাকারীদের বিচার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং সরকার আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্নের আগেই বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠী তাদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রশ্নে সরকার জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই দুই ইস্যুতে জুলাইয়ের স্পিরিট ফিরিয়ে আনতেই তরুণদের আবারও ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দলটির একজন যুগ্ম সদস্য সচিব উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘায়িত হয়েছিল ভারতের প্রকাশ্য সমর্থনে এবং বর্তমানেও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থানে দেখতে চায় দেশের জনগণ। বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চের আদলে একটি ‘সীমান্ত মার্চ’ কর্মসূচি দেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে দলটির নীতি-নির্ধারকেরা, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী দুই-একদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।















