চার দেশ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার
শিল্প ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মরক্কো ও কাফকো থেকে মোট এক লাখ ৭০ হাজার টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৯২৫ কোটি ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮২০ টাকা। এর মধ্যে এক লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি সার রয়েছে।
রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কাছ থেকে দ্বিতীয় লটের ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৯৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা, যেখানে প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩৯৯.১৭ মার্কিন ডলার।
একই অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রো নিউট্রিশন কোম্পানির কাছ থেকে সপ্তম লটের ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৯০ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রতি টন সারের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩৯০ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে অষ্টম লটের ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৩৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা, প্রতি টন সারের দাম ৩৭৯.৫০ মার্কিন ডলার।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর মধ্যে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় ১১তম লটের ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৯৯ কোটি ৫১ লাখ ২ হাজার টাকা, প্রতি টনের দাম ৫৪২ মার্কিন ডলার।
এছাড়া একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২তম লটের আরও ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এ লটের জন্যও ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি ৫১ লাখ ২ হাজার টাকা, প্রতি টনের দাম অপরিবর্তিত ৫৪২ মার্কিন ডলার।
সব মিলিয়ে চার দেশ থেকে মোট এক লাখ ৭০ হাজার টন সার কেনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকারের এ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


















