ঘুম না আসার যুগে—মানুষ কি ভুলে যাচ্ছে বিশ্রাম নিতে?
আধুনিক জীবনে ঘুম যেন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, মোবাইলের আলো, আর সারাক্ষণ অনলাইনে থাকার অভ্যাস—সব মিলিয়ে মানুষ এখন ঘুমাতে পারছে না, কিংবা ঘুমালেও পাচ্ছে না বিশ্রাম। চিকিৎসকদের মতে, “ডিজিটাল ইনসমনিয়া” এখন এক নীরব মহামারিতে পরিণত হচ্ছে।
রাতের শেষ প্রহরেও কেউ ইমেইল চেক করছে, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করছে। অনেকেই আবার সিরিজ দেখতে দেখতে বুঝতেই পারেন না কখন ভোর হয়ে যায়। কিন্তু এই ছোট ছোট অভ্যাসই ঘুমের গুণমান নষ্ট করছে।
ঢাকার একজন কর্মজীবী নারী বললেন, “আগে রাত ১১টার মধ্যেই ঘুমাতাম, এখন ২টার আগে চোখ বন্ধ হয় না। সকালে উঠেই ক্লান্ত লাগে।” মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ক্লান্তি শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জীবনের দ্রুতগতিই এর মূল কারণ। প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় সবাই সবসময় ব্যস্ত থাকতে চায়। কিন্তু বিশ্রামও তো একধরনের কাজ—যা আমাদের শরীর আর মস্তিষ্ককে পুনরুজ্জীবিত করে।
তাই তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, ঘুমের অন্তত আধঘণ্টা আগে মোবাইল, ট্যাব বা টিভি স্ক্রিন থেকে দূরে থাকতে, নরম আলোয় বই পড়তে বা হালকা সংগীত শুনতে।
কারণ, হয়তো সময় এসেছে মানুষ আবার শিখবে—ঘুমানো মানেই সময় নষ্ট নয়, বরং সেটাই জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার শক্তি।


















