গাজীপুর সাফারি পার্কে একের পর এক প্রাণীর মৃত্যুর পর এবার হাতির গুরুতর অসুস্থতায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
গাজীপুর সাফারি পার্কে একের পর এক প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনার উদ্বেগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ‘রাজু বাহাদুর’ নামের একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির গুরুতর অসুস্থতার খবর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাঘ, জেব্রা, জিরাফ ও হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর ধারাবাহিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বা দায়ীদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তার ওপর অসুস্থ হাতিটির প্রকৃত অবস্থা দেখতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুমতি না দেওয়া এবং পার্কের অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি ও রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা সাফারি পার্কের জবাবদিহিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
২০১৩ সালে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া শ্রীপুর উপজেলার ইন্দ্রপুরে প্রায় ৩৬9 একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত এই সাফারি পার্কটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সম্প্রতি পার্কের রাজু বাহাদুর নামের হাতিটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, হাতিটির সামনের দুই পা প্রায় অচল হয়ে যাওয়ায় সেটি দীর্ঘ সময় ধরে মাটিতে শুয়ে রয়েছে। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান জানান, অন্য একটি হাতির আঘাতে সামনের দুই পায়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এটি দাঁড়াতে পারছে না এবং বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এর চিকিৎসা চলছে। তবে হাতিটি ‘রেস্ট্রিকটেড এরিয়া’ বা সংরক্ষিত এলাকায় থাকায় সেখানে কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পার্কের এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নেত্রকোনা থেকে আসা দর্শনার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বন্য প্রাণীদের অসুস্থতা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার এবং চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সচেতন মহল পার্কের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি প্রাণীদের লালনপালনে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।



















