গাজার পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিল ইসরায়েল
গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠন তত্ত্বাবধানের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত বিশেষ ফোরাম ‘বোর্ড অব পিস’-এ সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে ইসরায়েল। গত বুধবার ওয়াশিংটনের ব্লেয়ার হাউসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর সঙ্গে এক বৈঠকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই অন্তর্ভুক্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং দুই দেশের অটুট মিত্রতা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ দুই বছরের সামরিক অভিযানের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার অধীনে এই নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো গাজার স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি দক্ষ টেকনোক্র্যাট সরকারের মাধ্যমে অঞ্চলটির উন্নয়ন সাধন করা। এই প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ), যা সরাসরি বোর্ড অব পিসের কাছে জবাবদিহি করবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই উদ্যোগে ইতিমধ্যে পাকিস্তান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু দেশ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে। গাজার পুনর্গঠন তহবিলের জন্য প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের জন্য ১০০ কোটি ডলার চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া উপত্যকাটিকে পুনরায় সচল করতে ব্যয় করা হবে। গত জানুয়ারিতে এই বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্তি এই ফোরামের কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা প্রদান করল।
গাজা অভিযানে গত দুই বছরে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পর এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে শান্তির পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলের এই অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, কারণ গাজার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকেই প্রধানত দায়ী করা হয়। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় গঠিত এই বোর্ড এখন গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।



















