গত ছয় দশকে ইরাকে তাপমাত্রা আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি, মরুভূমি হওয়ার ঝুঁকিতে অর্ধেকের বেশি ভূখণ্ড
গত ছয় দশকে ইরাকজুড়ে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন ৪৪ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ইরাকি আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার জলবায়ু ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ১৯৬৬ ও ১৯৯৬ সালের জলবায়ুর রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলে একসময় দিনের বেলা যেখানে ৩৬ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকত, তা এখন প্রায় দেখাই যায় না। তীব্র গরমের এই প্রভাব দেশজুড়ে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাতেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ১৯৬৬ সালে ইরাকের বেশিরভাগ অংশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে দেশটির কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর বেশিরভাগ এলাকায় তা বেড়ে ২৮ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই উষ্ণায়নের জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান নিঃসরণ, নগরায়ণ এবং গাছপালা কমে যাওয়াকে দায়ী করেছে গবেষণা কেন্দ্রটি।
জলবায়ুর চরম ভাবাপন্নতার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি দেশের তালিকায় ইরাককে অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। পরিবেশবিষয়ক সংস্থা গ্রিন ইরাক অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট ভূমির ৫৫.৫ শতাংশ এলাকা বর্তমানে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির ২৩.২ শতাংশ ভূমি পুরোপুরি মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে—যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বেশি।
সংস্থাটির হিসাব মতে, লবণাক্ততা এবং ভূমি ক্ষয়ের কারণে ইরাকে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে দেশটির ধি কার, মাইসান, আল-মুথান্না এবং আল-দিওয়ানিয়াহ প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এই গবেষণার ফল জলবায়ু অভিযোজন, কৃষি, পানিসম্পদ এবং নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করবে।


















