মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬| রাত ৮:৪৩

খোলা তেলে ভিটামিনের অভাব, অন্ধত্ব ও মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে

প্রতিবেদক
staffreporter
অক্টোবর ২৯, ২০২৫ ৯:৩২ অপরাহ্ণ
খোলা তেলে ভিটামিনের অভাব, অন্ধত্ব ও মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে

খোলা তেলে ভিটামিনের অভাব, অন্ধত্ব ও মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে

দেশে ভোজ্যতেল ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণের আইন থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ তেলে পর্যাপ্ত ভিটামিন নেই, যা বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের অন্ধত্ব এবং মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোলা ড্রামে তেল বিক্রি বন্ধ করা এবং মানসম্পন্ন প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক না করলে এই জনস্বাস্থ্য সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। বুধবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সবার জন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল : অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে কর্মশালায় ২৮ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

আলোচকরা জানান, আইন থাকা সত্ত্বেও বাজারের অধিকাংশ ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ অনুপস্থিত বা অপ্রতুল। আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া ভোজ্যতেলের প্রায় ৬৫ শতাংশই খোলা ড্রামে বিক্রি হয়, যার মধ্যে ৫৯ শতাংশ তেলে কোনো ভিটামিন ‘এ’ নেই এবং মাত্র ৭ শতাংশ তেলে আইনি মান বজায় রয়েছে। ফলে দেশে শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে। এছাড়া রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণের পুরনো ড্রামে এসব তেল বিক্রি হওয়ায় তেল দূষিত হচ্ছে এবং মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। খোলা সয়াবিন ও পাম তেল বিক্রি নিষিদ্ধের সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর হয়নি।

বক্তারা শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ তেল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা আরও বলেন, ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতিও এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’-এর পাশাপাশি ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণ করলে এটি একটি কার্যকর ও স্বল্পব্যয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হবে। আলো প্রতিরোধী বোতলে তেল সংরক্ষণ এবং মানসম্পন্ন প্যাকেজিং নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন বলেন, দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ বোতলের তেল ব্যবহার করেন না। খোলা তেলে কেমিক্যাল মেশানো হয়, যা ক্যান্সার, কিডনি ও হার্টের ঝুঁকি বাড়ায়। তেল পরিবহনের ড্রাম থেকেও জীবাণু ও মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত হয়, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি জানান, ভিটামিন ‘এ’ যোগ করার ফলে লিটারপ্রতি তেলের দাম মাত্র ৫০ পয়সা বাড়ে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা তা বাড়িয়ে দেখান। খোলা তেলের ভিটামিনের পরিমাণ দ্রুত কমে যায়, ফলে ভোক্তা প্রকৃত সুবিধা পান না।

তিনি বলেন, ফুড-গ্রেড ড্রাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং খোলা তেল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকেও ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহাম্মদ ইফতিখার জানান, ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি এখন সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত রিফাইনারিদের, সরকার কেবল তদারকি করে। তিনি ভোক্তাদেরও তাদের অধিকার নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আলিভা হক এবং প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - বানিজ্য ও অর্থনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত