কক্সবাজারে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য। গতকাল শনিবার কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠের জনসভা এবং সদরের পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান এই খালের খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন, আর এখন তারই ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে মাটি কেটে এর পুনঃখনন কাজের সূচনা করলেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেন এবং বিগত ১৭ বছর এই সড়কের কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি জানান, এবারের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কর বাড়ানো হয়েছে শুধু স্বাস্থ্যহানিকর মদ ও সিগারেটের ওপর। পাতলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার টন কৃষি উৎপাদন বাড়বে। এছাড়া সদ্যঘোষিত বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি জেলায় ৮-১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ডের মাধ্যমে নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
নারী শিক্ষার প্রসারে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার এবার স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তাঁর সাথে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ জেলা প্রশাসন ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। দিনব্যাপী এই সফরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী দেশের দ্বিতীয় জুলাই শহীদ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র অনুদান দেন এবং বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পেকুয়ার বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।


















