এলপিজি ও পাইপলাইনের গ্যাসের তীব্র সংকট: দিশেহারা সাধারণ মানুষ
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং পাইপলাইনের গ্যাস নিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ১,২৫৩ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১,৯০০ থেকে ২,০০০ টাকায়। শীতের প্রকোপ বাড়ায় গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই সংকট অদূর ভবিষ্যতে কাটার সম্ভাবনা কম।
সংকটের মূল কারণ এবং বর্তমান চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
এলপিজি সংকটের নেপথ্যে কারণসমূহ
- মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: এলপিজি আমদানিতে ব্যবহৃত ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় জাহাজ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে পরিবহন খরচ প্রতি টনে ১২০ ডলার থেকে বেড়ে ১৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- আমদানি হ্রাস: মাসিক চাহিদা ১ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯০ হাজার টনের মতো। ৫টি বড় কোম্পানি বর্তমানে আমদানি বন্ধ রেখেছে।
- ডিলার পর্যায়ে হাহাকার: ডিলাররা জানিয়েছেন, আগে যেখানে দৈনিক ২০০ সিলিন্ডার বিক্রি হতো, এখন সপ্তাহেও সেই পরিমাণ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ পেতে প্ল্যান্টগুলোতে ট্রাক ৩-৪ দিন বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।
পাইপলাইন ও সিএনজি স্টেশনের চিত্র
- বাসাবাড়িতে হাহাকার: শীতের কারণে তিতাস এলাকায় গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট বেড়েছে। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস অধিকাংশ সময় থাকছে না, যা আসছে তা দিয়ে রান্না করা অসম্ভব।
- সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি: লাইনে গ্যাস না থাকায় রাজধানী ও এর আশপাশের ২০০টির বেশি সিএনজি স্টেশনে রিফুয়েলিং ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবহন চালকরা বিপাকে পড়েছেন।
- মেরামত কাজ: তিতাসের পাইপলাইন মেরামতের কারণে গুলশান, বনানী, মালিবাগসহ বেশ কিছু এলাকায় সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
- বিইআরসি (BERC): আজ এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করার কথা থাকলেও কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, বাজার তদারকির দায়িত্ব তাদের না হওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না।
- তিতাস গ্যাস: তিতাসের এমডি শাহনেওয়াজ পারভেজ জানান, পাইপলাইন মেরামতের কাজ শেষ হওয়ায় রোববার থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে, তবে শীতে চাহিদা বেশি থাকায় সংকট পুরোপুরি কাটবে না।
সারকথা: আমদানিতে বাধা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার অসামঞ্জস্যের কারণে এলপিজি এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনে রান্না ও যাতায়াত উভয় ক্ষেত্রেই জনজীবন স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন
















