এক্সএআইয়ে নেতৃত্ব সংকট, দুই সহপ্রতিষ্ঠাতার পদত্যাগে বাড়ছে অস্থিরতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ে অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা টনি উ ও জিমি বা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক বার্তায় তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত জানান। প্রায় তিন বছর আগে ইলন মাস্কের সঙ্গে যৌথভাবে এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারা।
এর আগেও একাধিক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রতিষ্ঠানটি ছেড়েছেন। এখন পর্যন্ত ১২ জন সহপ্রতিষ্ঠাতার মধ্যে অন্তত অর্ধেক সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। ধারাবাহিক এই প্রস্থানে নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, জিমি বার পদত্যাগকে ঘিরে ভেতরে চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তি দলে উত্তেজনা দেখা দেয়, কারণ দ্রুত এআই মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ছিল প্রবল। ইলন মাস্ক চান, এক্সএআই দ্রুত ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাক। সেই ব্যবধান কমাতে চাপ বাড়ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জিমি বা প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে মন্তব্য করেননি; তিনি সহকর্মীদের এবং মাস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেই বিদায় জানান।
টনি উ-ও পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেননি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও কিছু জানাননি।
এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে আরেকটি বড় ঘোষণার পরপরই। কয়েক দিন আগে মাস্কের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স জানায়, তারা এক্সএআই অধিগ্রহণ করবে। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমন্বিত প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে আসবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার লক্ষ্য রয়েছে।
মাস্ক এরই মধ্যে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথাও বলেছেন, যার জন্য বিপুল অর্থ সংগ্রহ প্রয়োজন। তবে নেতৃত্ব পর্যায়ে একের পর এক প্রস্থান প্রতিষ্ঠানটির স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দ্রুত অগ্রগতির চাপ কি অভ্যন্তরীণ ফাটলের কারণ হয়ে উঠছে—এমন আলোচনা এখন জোরালো হচ্ছে।



















