একাত্তরের গণহত্যার বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো নৃশংসতার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ভারত। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই সংহতির কথা জানান। তিনি বলেন, অপারেশন সার্চলাইটের নামে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে ভয়াবহ গণহত্যা ও পরিকল্পিত নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা বিশ্ববিবেকে নাড়া দিলেও পাকিস্তান আজও তাদের সেই অপরাধ অস্বীকার করে আসছে।
রণধীর জয়সওয়াল আরও উল্লেখ করেন, পাক বাহিনীর সেই নিষ্ঠুরতা থেকে বাঁচতে লাখ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। নিরীহ মানুষকে হত্যা ও নারীদের ওপর গণহারে যৌন নির্যাতনের সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও অমলিন। বাংলাদেশ এই ঐতিহাসিক অন্যায়ের ন্যায়বিচার চায় এবং ভারত শুরু থেকেই বাংলাদেশের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করে আসছে।
দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও ২ লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বর্তমান সরকার এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, এই স্বীকৃতি অর্জনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসেও এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে।
গত ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের সেই কালো রাতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ২৫ মার্চকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম লজ্জাজনক ও নৃশংস দিন হিসেবে অভিহিত করেন। আন্তর্জাতিক মহলে একাত্তরের বর্বরতার স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।


















