উইকিপিডিয়ার বিকল্প হিসেবে ইলন মাস্কের ‘গ্রোকিপিডিয়া’ চালু
অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ইলন মাস্কের আলোচিত প্রকল্প ‘গ্রোকিপিডিয়া’। জনপ্রিয় অনলাইন জ্ঞানভাণ্ডার উইকিপিডিয়ার বিকল্প হিসেবে এটি তৈরি করেছে মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্স-আই। মঙ্গলবার প্ল্যাটফর্মটি উন্মুক্ত করা হয়, যা বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
ইলন মাস্ক গত সেপ্টেম্বরে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার টিম এমন এক সাইট বানাচ্ছে যা হবে “উইকিপিডিয়ার চেয়ে অনেক উন্নত”। তিনি এক এক্স পোস্টে লিখেছিলেন, “সত্যি বলতে, এটি মহাবিশ্ব বোঝার পথে এক্স-আই এর একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।”
চালুর সময় গ্রোকিপিডিয়ায় নিবন্ধের সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৭৯টি। তবে কিছু ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে তারা ত্রুটি পাচ্ছেন। এর ইন্টারফেস অনেকটাই উইকিপিডিয়ার মতো হলেও পটভূমি কালো এবং ফন্টে আধুনিক চ্যাটজিপিটি–এর ছোঁয়া রয়েছে। বর্তমানে সাইটে “ভার্সন ভি০.১” লেখা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে এটি এখনো পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। তুলনামূলকভাবে, উইকিপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণে ৭০ লাখেরও বেশি নিবন্ধ রয়েছে।
ইলন মাস্কের এই নতুন উদ্যোগকে অনেকে দেখছেন মূলধারার প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে তার আরেকটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে। যদিও মাস্ক একসময় উইকিপিডিয়ার প্রশংসা করেছিলেন, পরে তিনি একে “রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট” বলে সমালোচনা করেন। এমনকি অনুসারীদের আহ্বান জানান, “উইকিপিডিয়াকে তহবিল দেওয়া বন্ধ রাখুন, যতক্ষণ না সেখানে ভারসাম্য ফিরে আসে।”
২০১৯ সালে নিজের উইকিপিডিয়া পৃষ্ঠা নিয়ে মাস্ক টুইট করেছিলেন, “এটা যেন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো, একের পর এক এডিট চলছে।” পরে ২০২২ সালে তিনি বলেন, “উইকিপিডিয়ায় এখন স্পষ্টভাবে বামপন্থী পক্ষপাত লক্ষ্য করা যায়।”
উইকিপিডিয়ার সহ–প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস ও ইলন মাস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের অনলাইন বিরোধও রয়েছে। তুরস্কের নির্বাচনের সময় টুইটারে কিছু কনটেন্ট সীমাবদ্ধ করায় ওয়েলস মাস্ককে তীব্র সমালোচনা করেন। পরবর্তীতে এক্স-এ রূপান্তরের পর ওয়েলস মন্তব্য করেন, “এক্স এখন ট্রল ও উন্মাদে ভরা।” জবাবে মাস্ক রসিকতা করে বলেন, “উইকিপিডিয়া যদি নাম বদলে ‘ডিকিপিডিয়া’ রাখে, আমি এক বিলিয়ন ডলার দেব!”
তবে ওয়েলস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি গ্রোকিপিডিয়া নিয়ে খুব আশাবাদী নন, কারণ বর্তমান এআই প্রযুক্তি এখনো নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন করতে সক্ষম নয়। চালু হওয়ার পর থেকেই গ্রোকিপিডিয়া–এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইটে মাস্ক সম্পর্কিত এক নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে যে বিবেক রামস্বামী ডজকয়েন প্রকল্পের নেতৃত্বে আছেন—যা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য।
তবে মাস্ক জানিয়েছেন, এসব ভুল দ্রুত সংশোধন করা হচ্ছে এবং শিগগিরই গ্রোকিপিডিয়া “মানব জ্ঞানের পুরো ভাণ্ডার নতুন করে লিখবে—ভুল মুছে, অনুপস্থিত তথ্য যোগ করে।”
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রোকিপিডিয়া তথ্যের বিকেন্দ্রীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্ভুলতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।
















