ইস্তাম্বুলে পাক আফগান শান্তি সংলাপ ভেস্তে গেলো
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার সংলাপে কোনো চুক্তি বা লিখিত সমঝোতা বিনা সিলমোহরেই শেষ হয়েছে; পুরো প্রক্রিয়াটিকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ‘অচলাবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সংলাপ অনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং এর আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। পাকিস্তান আশা করেছিল আফগানিস্তান সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে সহযোগিতা দেবে, কাতার ও তুরস্ক আলোচনায় মধ্যস্থতা করে দুই দেশের অবস্থান সমর্থন করলেও শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সময়ে আফগান প্রতিনিধি এক ধাক্কায় পিছিয়ে গেছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অবনতি ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পরে তীব্র হওয়া কালে সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) পাকিস্তানের জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিটিপির হামলায় গত কয়েক বছরে হাজারো সামরিক ও বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন বলে ইসলামাবাদ দাবি করে; কাবুল বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকৃতি জানায়। পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে ৯ অক্টোবর রাতে কাবুলে টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ নিহত হওয়ার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা বাড়ে এবং ১১ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্ত জুড়ে সংঘর্ষ হয়; পাকিস্তানি সেনা তথ্য অনুযায়ী সংঘাতে আফগান বাহিনীর ২০০ জন এবং পাকিস্তানের ২৩ জন নিহত হন।
জঙ্গি আক্রমণ রোধে আফগানিস্তানের ভূমিকা না থাকায় পাকিস্তান সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলা হলে তারা সমুচিত জবাব দেবে। বিবাদ শুষ্ক কূটনীতি ও সামরিক তৎপরতার পুনরাবৃত্তি ছাড়াও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোও হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং এখন পরিস্থিতি আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।



















