ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন ফেরাতে স্বাধীন পর্ষদ গঠন ও প্রবাসী পরিচালক নিয়োগের দাবি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সুশাসন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং প্রবাসীদের মধ্য থেকে অন্তত একজন পরিচালক নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির প্রকৃত মালিকানা পুনর্বহালসহ পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং ব্যাংক খাতের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের জোর দাবি উঠেছে। লন্ডনের একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের কাছে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীরা অভিযোগ করেন যে, বিগত দিনে রাজনৈতিক ও করপোরেট প্রভাবের কারণে দেশের অন্যতম প্রধান এই ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থের অনিয়মের পাশাপাশি পরিচালনা ও মালিকানা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সাধারণ গ্রাহক ও প্রবাসীদের মধ্যে আস্থা সংকট দেখা দিয়েছে। তাই ব্যাংকের হারানো গৌরব ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ সময় প্রবাসী গ্রাহক পরিষদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সততা ও ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নীতিমালা নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত সেবা এবং পর্ষদে অন্তত একজন যোগ্য প্রবাসী পরিচালক যুক্ত করা। এছাড়া ব্যাংকটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংগঠনের নেতারা উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স সংগ্রহে ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ ভূমিকা রেখে আসছে। তাই এই ব্যাংকের স্থিতিশীলতা প্রবাসীদের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রবাসীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বিদ্যমান সংকট নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।


















