ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও সাবেক এমডির পুনর্বহালের দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, রোববার বেলা ১১টায় মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। গ্রাহকদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাংক ও এর আশপাশের এলাকায় জলকামান ও সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ সুকৌশলে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছিল এবং বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম জুলাই বিপ্লবের সময় পালিয়ে গিয়েও পুনরায় ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। বিক্ষোভকারীরা জানান, তিন কোটি গ্রাহকের আস্থার এই শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকটিকে আর কোনো লুণ্ঠনকারীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না এবং ব্যাংকের মূল্যবোধ রক্ষায় দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে এটিকে মুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এর আগে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের পর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। চলমান এই আন্দোলনের মধ্যেই গত সোমবার রাতে ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এমডি মো. ওমর ফারুকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে একই দাবিতে মানববন্ধন করেছিল ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সেই সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও নিজেদের দাবি আদায়ে রাজপথে অনড় অবস্থান নিয়েছেন ব্যাংকটির সাধারণ গ্রাহকেরা।



















