ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যকার সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েল ও সিরিয়া টানা চার দিনের সংঘাত ও ৩২১ জন নিহত হওয়ার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই খবর গতকাল শুক্রবার তুরস্কের মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তুরস্ক, জর্ডানসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসরায়েল ও সিরিয়া যুদ্ধবিরতিতে গিয়েছে। তিনি দ্রুজ, বেদুইন ও সুন্নিদের অস্ত্র সমর্পণ এবং একটি নতুন সিরিয়া গঠনের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে সিরিয়ার সোয়েইদায় একটি পারিবারিক জমায়েতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা, যারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা’র নেতৃত্বাধীন হায়াত তাহরির আল শামস (এইচটিএস)-এর সদস্য এবং সুন্নি ধারার কট্টরপন্থী। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। এরপর ইসরায়েল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক এবং সোয়েইদায় সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়, যার লক্ষ্য ছিল দ্রুজ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করা।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দ্রুজ, বেদুইন ও সুন্নিদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিলো। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা সেনাবাহিনী পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও সংঘাত আরও তীব্র হয়। চার দিনের সংঘাতে সোয়েইদার বাসিন্দারা মানবিক সংকটে পড়েছে; খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ।
দ্রুজ ধর্মাবলম্বীরা মূলত শিয়া ইসলামের শাখা হলেও তারা নিজেদের আহলে তাওহিদ (একেশ্বরবাদী) বলে পরিচয় দেন এবং আল্লাহ, হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও চার খলিফার প্রতি বিশ্বাসী। দ্রুজরা মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।
এই সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির ঘটনা সিরিয়ার জটিল রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিকে আরও গভীর করে তুলেছে বলে মন্তব্য করা হচ্ছে।


















