ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের শর্তে সৌদির পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার সাম্প্রতিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন শর্ত জুড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রিয়াদ যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, তবেই এই বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চুক্তিটি অনুমোদিত হবে ঠিকই, কিন্তু তা সম্পূর্ণরূপে সৌদি আরবের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সৌদি সরকারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারত্বের লক্ষ্যে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাত্র একদিন পর ট্রাম্পের এই আকস্মিক বক্তব্য সামনে এলো। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটও পুনর্ব্যক্ত করেন যে সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিলে দ্বিপক্ষীয় এই চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে। এতদিন ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে ইসরায়েলকে স্বীকৃতির কথা বলে আসা রিয়াদের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন শর্ত একটি বড় কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে সৌদি আরবকে বেসামরিক কাজের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, তারা এখনও আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের দায়িত্ব পায়নি। তাছাড়া যেকোনো অবস্থাতেই চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ নিতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন লাভ করা বাধ্যতামূলক।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সঙ্গে ইসরায়েলের বৈরিতা কমিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষর করিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবকে এতে যুক্ত করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন শর্তযুক্ত বিজ্ঞপ্তির পর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
















