ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিল ওয়াশিংটন
আকাশসীমা আংশিকভাবে উন্মুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। নাগরিকদের ফ্লাইটের তথ্যের জন্য স্থানীয় বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং পরিস্থিতি বুঝতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ওপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরান থেকে আকাশপথের পাশাপাশি সড়কপথে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, তুরস্ক ও তুর্কমেনিস্তান দিয়েও নিরাপদে প্রস্থান করা সম্ভব। তবে আফগানিস্তান ও ইরাক সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতের বিষয়ে নাগরিকদের কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ সতর্কতায় বলা হয়েছে, ইরান সরকার মার্কিন নাগরিকদের দেশ ত্যাগে বাধা দিতে পারে কিংবা বিশেষ ‘এক্সিট ফি’ দাবি করতে পারে। দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আশার আলো দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আগামী শুক্রবারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে ‘সুসংবাদ’ আসতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে এই আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইসলামাবাদ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দফার এই আলোচনা শুরু হতে পারে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছিলেন, ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘একীভূত প্রস্তাব’ না আসা পর্যন্ত বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন তিনি। ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা সফল হলে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা নিরসনে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


















