ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন ও ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে টানা দুই রাত ধরে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীরা রাজধানী তেহরানের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ববর্তী সময়ের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে তাদের প্রতিবাদ প্রদর্শন করেছে। তেহরানের সাদা’ত আবাত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির মাসহাদ, তাবরিজ, ইস্ফাহান ও কারাজসহ বড় বড় শহরগুলোতে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীরা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ ও শাহ আমলের রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে অংশ না নিতে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা চলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র গত বৃহস্পতিবারই তেহরানে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেছে, মার্কিন প্ররোচণায় একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এখন সহিংস রূপ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান সরকার যদি আন্দোলনকারীদের ওপর হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তবে দেশটিতে শক্তিশালী সামরিক হামলা চালানো হবে। গত ১৩ দিন ধরে চলতে থাকা এই আন্দোলনে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে শুরু হয়ে এখন পুরো দেশজুড়ে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে।


















