ইরানের হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষ কমিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি রক্ষণাবেক্ষণ ও সেখান থেকে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায়কারী ইরানি কর্তৃপক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের এই কমিটিকে দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামি শাসকগোষ্ঠীর একটি ‘উন্মত্ত পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে আইন বহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের এই ইরানি প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে নগদ অর্থের জন্য কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি, যা দিয়ে পৃথিবীর মোট জ্বালানি পণ্যের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ জারি করে ইরান। পরবর্তীতে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো বিদেশি জাহাজ চলাচল করতে হলে ইরানকে নির্দিষ্ট হারে টোল দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পতাকাবাহী কোনো জাহাজ দেখা মাত্রই সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
এই টোল আদায় প্রক্রিয়াকে বৈধতা দিতে সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্টে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করা হয়। সেই আইন অনুযায়ী, ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি ‘হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই ইরানের এ পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের স্পষ্ট যুক্তি, বৈশ্বিক সমুদ্র আইন অনুসারে কোনো আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর কোনো একক দেশ এভাবে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ বা টোল আদায় করতে পারে না, যা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও একটি বড় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি বিশ্বের অন্য কোনো দেশ বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইরানের এই হরমুজ প্রণালি কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার সহযোগিতা করে, টোল প্রদান করে কিংবা তাদের কাছ থেকে কোনো পরিষেবা গ্রহণ করে, তবে সেই দেশ বা সংস্থাকেও সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।



















