ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দুই হাজার নিহতের তথ্য প্রথমবার স্বীকার
অর্থনৈতিক সংকটে জনজীবনে নেমে আসা চরম দুর্ভোগের জেরে শুরু হওয়া ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে স্বীকার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সরকারি এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ ও সহিংসতায় বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, এই প্রাণহানির জন্য দায়ী ‘সন্ত্রাসীরা’। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেননি তিনি। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি এটাই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ।
বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভকে গত তিন বছরের মধ্যে ইরানি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটির শাসকগোষ্ঠীর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব একদিকে বিক্ষোভের পেছনে থাকা কিছু অর্থনৈতিক অভিযোগকে ‘ন্যায্য’ বলে স্বীকার করলেও অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তেহরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে এবং অজ্ঞাত ‘সন্ত্রাসীরা’ সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এমনকি সামরিক মানের জ্যামার ব্যবহার করে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট সেবাও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
গত এক সপ্তাহে রাতের বেলায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও সামনে এসেছে। রয়টার্স যাচাই করা এসব ভিডিওতে গুলিবর্ষণ, গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগ এবং উভয় পক্ষের সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি


















