ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক, বাড়তে পারে ভারতীয় পণ্যের চাপ
ইরানের সঙ্গে যেসব দেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং পরিসরেও বড়।
বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক এবং বাকি ২৫ শতাংশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে আরোপিত শাস্তিমূলক শুল্ক। নতুন করে ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার ৭৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপরও ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন, যদিও সেটি এখনো কার্যকর হয়নি।
বাণিজ্যিক দিক থেকে ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। ভারত ইরানে চাল, চা, চিনি, ওষুধি পণ্য, হস্তশিল্প, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং কৃত্রিম স্বর্ণালঙ্কার রপ্তানি করে। অন্যদিকে ইরান থেকে ভারতে আমদানি করা হয় ড্রাই ফ্রুট, রাসায়নিক দ্রব্য, কাচের জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন পণ্য।
বাণিজ্যের পাশাপাশি ইরানের চাবাহার বন্দরে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই বন্দরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তবে ২০২৫ সালে ভারত ছয় মাসের জন্য নিজেদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেতে সক্ষম হয়। এই বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চাবাহার বন্দরের মাধ্যমেই আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য পরিচালিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র চাবাহার বন্দরে ভারতের কার্যক্রম চালানোর অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে নয়াদিল্লি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপে পড়তে পারে।
সূত্র: আউটলুক


















