বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬| রাত ৯:২৮

ইরানের শাসনব্যবস্থা ও অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রক শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

প্রতিবেদক
staffreporter
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ইরানের শাসনব্যবস্থা ও অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রক শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

ইরানের শাসনব্যবস্থা ও অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রক শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দেশটির সামরিক কাঠামোর এক শক্তিশালী আদর্শিক শাখা, যা সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে দায়বদ্ধ। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ প্রচার ও সুরক্ষার লক্ষ্যে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নির্দেশে এই বাহিনী গঠিত হয়। বর্তমানে প্রায় দুই লাখ সদস্যের এই সুসংগঠিত বাহিনী নিয়মিত সেনাবাহিনীর তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত প্রশিক্ষণে সজ্জিত। কেবল স্থল নয়, নৌ ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা খাতেও তাদের বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিত্র শক্তির সঙ্গে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে তারা।

আইআরজিসিকে কেবল একটি সামরিক বাহিনী বললে ভুল হবে, বরং এটি ইরানের অর্থনীতির ভেতর এক বিশাল সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত। দেশটির অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং আর্থিক খাতের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে এই বাহিনীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তথ্যমতে, ইরানের মোট সামরিক বাজেটের প্রায় ৪০ শতাংশ বা বছরে ৬ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার এই বাহিনীর পেছনে ব্যয় করা হয়। মূলত ইরানের জাতীয় অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ এই বাহিনীর মাধ্যমেই পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিক্ষোভ দমনে আইআরজিসি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করে। নিজস্ব বিশাল গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং আধা-সামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর সহায়তায় তারা যেকোনো ধরনের গণআন্দোলন দ্রুত শনাক্ত ও দমন করতে সক্ষম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে সংঘটিত বিভিন্ন বিক্ষোভে বল প্রয়োগের কারণে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে বিক্ষোভ দমনে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আইআরজিসি ব্যাপক বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশও আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জার্মানি ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - রাজনীতি