ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায় ও ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক স্মৃতি
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। ধানমন্ডির বাসভবনে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তাঁর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূসহ মোট ২৬ জন প্রাণ হারান। শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন বাঁচাতে ছুটে গিয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলসহ একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকেও সেদিন জীবন দিতে হয়। তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে প্রাণে বেঁচে যান তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এই দিনটিকে প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ক্ষমতার পালাবদলে এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন ঘটলেও ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনরায় ১৫ আগস্টকে শোক দিবস হিসেবে চালু করে। প্রতি বছর এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর, টুঙ্গিপাড়া ও বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধানিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হতো।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় শোক দিবস ও এর সরকারি ছুটি বাতিল করে। আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে সেখানে সার্বিক রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও তার সব অঙ্গ-সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় মাঠপর্যায়ে কোনো দলীয় বা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির পক্ষ থেকে এই দিনটিকে ঘিরে স্মৃতিচারণ ও শোক প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে।



















