ইউক্রেনের ট্রেন ইঞ্জিন ও পেট্রোল স্টেশনে রুশ হামলা, সহকারী চালক নিহত
ইউক্রেনে নতুন করে আবার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এবারের হামলায় দেশটির তিনটি ট্রেন ইঞ্জিন এবং দুটি পেট্রোল স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। ভয়াবহ এই হামলায় ইউক্রেনের রেলওয়ের একজন সহকারী ট্রেনচালক নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত কয়েকমাস ধরে রাশিয়া যেসব হামলা চালিয়েছে, নতুন করে তার তীব্রতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই একে অপরের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোকে নিশানা করছে, যাতে সম্মুখ সমরে থাকা সেনাদের কাছে রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া যায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই সংঘাত চলছে এবং বর্তমানে দুই দেশই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইউক্রেনের সরকারি ট্রেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী ওলেক্সান্ডার পার্তসোভস্কি ইঞ্জিনে হামলার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, একটি হামলা হয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামি এলাকায় এবং অপর দুটি ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝিয়াতে। এর মধ্যে জাপোরিঝিয়ার হামলায় এক সহকারী ট্রেনচালক প্রাণ হারান। তিনি বলেন, বাকি দুটি ইঞ্জিনের ক্রুদের সময়মতো সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও, জাপোরিঝিয়ার ঘটনার সময় মূল চালক ট্রেন থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও সহকারী চালক সামনের ক্যাবে আটকে থাকায় তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
রুশ সেনারা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের একশরও বেশি রেল ইঞ্জিনে হামলা চালিয়েছে উল্লেখ করে ওলেক্সান্ডার পার্তসোভস্কি বলেন, ক্রেমলিনের মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের ট্রেন চলাচল এবং লজিস্টিক সরবরাহ ব্যবস্থা যেন একদম স্থবির হয়ে পড়ে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরও বিকল্প উপায়ে রেল যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা করছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।



















