আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে নির্বাহী কমিটিতে রূপান্তর, বড় ধরনের পুনর্গঠনের মাধ্যমে দল ঢেলে সাজাচ্ছে এনসিপি
বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন পুনর্গঠনের পর এবার মূল দল ঢেলে সাজানোর বড় উদ্যোগ নিয়েছে তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। নতুন এই কাঠামোতে বর্তমান আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নিজ নিজ পদে বহাল থাকলেও যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠক এবং সমন্বয়কের পদগুলো বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও সহসম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করে নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন বা পুনর্বণ্টন করা হবে। এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পরিষদ’ এবং সর্বশেষ সাধারণ সভায় ইতিমধ্যে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুন মাস কিংবা আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এনসিপিতে নতুন করে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হলেও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে রাজনৈতিক পরিষদ বহাল থাকবে। সাংগঠনিক সম্পাদক পদটি বহাল রেখে নেতৃত্বে কিছু রদবদল আনা হচ্ছে, তবে কাজ সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সেলকে মূল দলে একীভূত করে বিষয়ভিত্তিক সম্পাদক পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সম্প্রতি দলটির রাজনৈতিক পর্ষদে নতুন সংসদ সদস্যসহ ছয়জন নেতাকে যুক্ত করায় এই ফোরামের সদস্য সংখ্যা এখন ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা এই কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন।
নতুন এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করা। কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতাকে বিভিন্ন মহানগর ও জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে, যা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। গত কয়েক মাসে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও আপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগদান করেছেন, যাদের একটি বড় অংশকে নতুন কমিটিতে পদায়ন করা হচ্ছে।
দল পুনর্গঠনের এই পুরো প্রক্রিয়াটি চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীকে সামনে রেখে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। নতুন কমিটি গঠনের পরপরই জুলাই মাসজুড়ে এবং আগস্টের ৫ তারিখ পর্যন্ত মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্টদের বিচার এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবিতে রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি দেশব্যাপী নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি।



















