আফগান প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাংলাদেশি আলেমদের বৈঠক
আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের প্রধান বিচারপতি শায়খ আবদুল হাকিম হাক্কানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ থেকে সফররত শীর্ষস্থানীয় ইসলামি আলেমরা। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির সুপ্রিম কোর্টে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রসপার আফগানিস্তানের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ সফরে উভয় পক্ষ ইসলামী আইন ও হানাফি ফিকহের অভিন্ন ঐতিহ্য, বিচারব্যবস্থার কাঠামো এবং সমকালীন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আফগানিস্তানের শরিয়াভিত্তিক বিচারপ্রক্রিয়ার ধাপ, আপিল কাঠামো ও বিচার বিভাগের কার্যক্রম নিয়েও বাংলাদেশি আলেমরা গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধান বিচারপতি হাক্কানি বৈঠকে বলেন, শরিয়াভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন ক্ষমতা অপরিহার্য। ইসলামি সরকারের মূল দায়িত্ব হলো ইনসাফ নিশ্চিত করা, যা হতে হবে নিরপেক্ষ— জাতি, ভাষা বা মাযহাবের ঊর্ধ্বে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আগে শান্তি ও নিরাপত্তা অপরিহার্য, কারণ শান্তি ছাড়া জনগণ ইনসাফ পায় না।
বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্য মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমী বলেন, “আমাদের দেশে হানাফি ফিকহ শিক্ষার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। তবে প্রথমবার আমরা প্রত্যক্ষ করলাম, কীভাবে একই ফিকহি কাঠামোকে একটি রাষ্ট্রের নীতি ও বিচারব্যবস্থার স্তরে প্রয়োগ করছে আফগানিস্তান। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা।”
প্রতিনিধিদল ভবিষ্যতে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের উলামাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করে। যৌথ গবেষণা, তুলনামূলক একাডেমিক কাজ এবং সমকালীন ফিকহি ইস্যুতে মতবিনিময়ের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এ ধরনের একাডেমিক সহযোগিতা উভয় দেশের ইসলামী চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এই সফরকে এশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি ধারার মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করবে।
বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলে ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা আব্দুল হক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি মাহবুবুল্লাহ কাসেমী ও মুফতি মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ।



















