আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমলেও দেশে কেন বাড়ে, সিপিডির প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে এবং দেশে চাল উৎপাদনেও ঘাটতি নেই অথচ কেন দাম বাড়ে এই প্রশ্ন রেখে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে যে চালের উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় কারণ। শনিবার ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন যে ২০২৩ সাল থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখনও চলমান রয়েছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কমছে কিন্তু কমার হার ধীর। ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৪৯ শতাংশ যেখানে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ। তিনি বলেন যে চালের চাহিদা ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক টন আর উৎপাদন ৪৪ মিলিয়ন টন অর্থাৎ চালের উৎপাদনে ঘাটতি নেই। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে কিন্তু আমাদের দেশে কমছে না যা একটি বড় সমস্যা।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন যে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৬.৭ শতাংশ হলেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ১৫.০২ শতাংশ এবং এনবিআর যদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হয় তাহলে বাকি সময়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কঠিন।
সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে সিপিডি বলছে যে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার সাড়ে ১১ শতাংশ যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সরকারের ব্যাংক খাত থেকে নিট ঋণ গ্রহণও বেড়েছে যা ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এবং সুদের হারে প্রভাব ফেলতে পারে। সিপিডি রাজস্ব বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি, সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর কার্যকর কর আরোপের সুপারিশ করেছে এবং অবৈধ আর্থিক প্রবাহ রোধে কর কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছে।



















