আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাহমুদুর রহমানের জবানবন্দি: শেখ হাসিনার দমননীতি তুলনা হিটলারের সঙ্গে
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরোধীপক্ষের ওপর আচরণকে ফ্যাসিবাদী অ্যাডলফ হিটলারের সাথে তুলনা করে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার মামলায় তিনি সোমবার এই জবানবন্দি দেন।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। মাহমুদুর রহমান ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন, যেখানে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, হিটলারের জার্মানিতে প্রথমে কমিউনিস্ট এবং পরে ইহুদিদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে তাদের নির্মূলের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছিল। বাংলাদেশেও ২০১৩ সালে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ রাজনৈতিক শ্রেণিকে নির্মূলের লক্ষ্যে জনমত তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, যেখানে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আয়োজনের মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হয়েছিল।
মাহমুদুর রহমান উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা পারিবারিকভাবে সেনাবিদ্বেষী ছিলেন এবং পিলখানায় দেশপ্রেমিক সেনাদের হত্যার পর বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ক্যান্টমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের নির্দেশে সচিবালয় থেকে কর্মকর্তাদের রাস্তা অবরোধে দাঁড়িয়ে অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সমর্থন জানাতে বাধ্য করা হয় এবং নিজে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেন, “এরা সবাই দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধা। আমি মানসিকভাবে সারাক্ষণ শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চেই থাকি।”
মাহমুদুর রহমান বলেন, শাহবাগের আন্দোলনে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রটোকলে বাধা না থাকলে ভারতের রাষ্ট্রপতিও শাহবাগে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করতেন, যা পার্শ্ববর্তী হেজিমনিক ভারতের পূর্ণ সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।



















