আজ ৭ নভেম্বর: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন
আজ ৭ নভেম্বর, বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশকে ভারতীয় আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে সিপাহি-জনতা রাজপথে নেমে আসে। এ সময় তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায় এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিএনপির আজকের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে র্যালি, এবং জেলা-উপজেলায় আলোচনা সভা। এছাড়া ১২ নভেম্বর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এবং ১৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব শুধু মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা নয়, এটি আধিপত্যবিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সূচনা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। তিনি বর্তমান সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে বলেন, গণতন্ত্রকে হত্যা ও মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার হরণের মধ্য দিয়ে দেশে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বাণীতে উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করেছে এবং জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও দুঃশাসন দূর করতে ৭ নভেম্বরের চেতনা অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। তিনি জাতিকে সতর্ক করে বলেন, দেশের ওপর ফ্যাসিবাদের পুনরাবর্তন রুখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
আজকের দিনটি তাই শুধু ইতিহাসের স্মারক নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক হিসেবেও উদযাপিত হচ্ছে।


















