অস্ট্রেলিয়ায় ইঁদুরের প্লেগে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ও চরম আতঙ্কে খামারিরা
অস্ট্রেলিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে ইঁদুরের ভয়াবহ উপদ্রব বা প্লেগ কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এসব ইঁদুর অবাধে ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ছে এবং বিঘার পর বিঘা শস্যক্ষেত ধ্বংস করছে। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল ও সারের আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার মুখে কৃষকেরা যখন এমনিতেই চরম আর্থিক চাপে রয়েছেন, তখন ইঁদুরের এই নতুন দুর্যোগ তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।
ইঁদুরের খেয়ে ফেলা শস্যক্ষেত পুনরায় রোপণ করতে এবং খেতে বিষাক্ত বীজ বা টোপ ফেলার পেছনে খামারিদের লাখ লাখ ডলার লোকসান গুনতে হচ্ছে। পশ্চিম ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার খামারিদের মতে, এবারের ইঁদুরের উপদ্রব ২০২১ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ উপদ্রবকেও ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, ক্যানোলা ক্ষেতগুলোতে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার ইঁদুর ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং রাতে মাটি খুঁড়ে রোপণ করা ফসলের পুরো সারিই সাবার করে দিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা ‘সিএসআইআরও’-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি হেক্টরে ৮০০ ইঁদুর থাকলে তাকে প্লেগ বলা হলেও বর্তমানে সেখানে প্রতি হেক্টরে হাজার হাজার ইঁদুর ও তাদের সক্রিয় গর্তের সন্ধান মিলছে। মাত্র ছয় সপ্তাহ বয়সে বংশবৃদ্ধি শুরু করা এই ইঁদুরগুলো প্রতি তিন সপ্তাহে একেকটি দল ১০টি পর্যন্ত বাচ্চা দিতে পারে। মাঠের ফসল ধ্বংস করার পাশাপাশি এগুলো মানুষের শোবার ঘর ও এয়ার কন্ডিশনারের ভেতর ঢুকে পড়ায় খামারিরা মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
কয়েক মাস অপেক্ষার পর সম্প্রতি জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা কৃষকদের আরও শক্তিশালী বিষ বা টোপ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়া, বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং এই শক্তিশালী টোপ ব্যবহারের ফলে অনেক এলাকায় ইঁদুরের সংখ্যা সামান্য কমতে শুরু করেছে। সামনে শীত মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে এই দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করছেন দেশটির কৃষকেরা।



















