অব্যবহৃত ও বেদখল জমি পুনরুদ্ধার ও সঠিক ব্যবহারে সময়োপযোগী পদক্ষেপের আহ্বান
অধিগ্রহণকৃত জমি নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না এবং তা ব্যবহৃত না হলে জেলা প্রশাসকের নিকট জমি ফেরত দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, দেশের ভূমি ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে, তাই জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, একসময় জেলা, উপজেলা ও গ্রামে থাকা পোস্ট অফিস, টেলিগ্রাফ অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জের জমিগুলো এখন অব্যবহৃত ও বেদখল অবস্থায় রয়েছে। এসব জমি অন্ততপক্ষে বনায়নের কাজে ব্যবহার করলেও সরকারের দখলে থাকবে এবং ভূমির অপচয় রোধ হবে।
সোমবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘অধিগ্রহণকৃত অব্যবহৃত ও বেদখল জমি ব্যবহার ও পুনরুদ্ধার’ বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির প্রথম সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ভূমি উপদেষ্টা আরও বলেন, অব্যবহৃত জমি পুনরুদ্ধার রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভূমি রাজস্ব বৃদ্ধি ও পরিকল্পিত নগরায়ণে সহায়ক হবে। ফলে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অব্যবহৃত ও বেদখল জমির তথ্য সংগ্রহ করে তা ক্রস চেক করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় জমি নামমাত্র মূল্যে নয়, বরং প্রকৃত মূল্যে কিনতে হবে। প্রয়োজনে আইন ও নীতিমালা সংস্কার করতে হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, অর্পিত ও শত্রু সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে। অনেক সম্পত্তি বর্তমানে বেদখল অবস্থায় আছে, বিশেষ করে ঢাকায় কয়েক হাজার অর্পিত সম্পত্তির অধিকাংশই বেদখলে। এই সমস্যার সমাধানে আইনজীবীদের সম্মানী বৃদ্ধির বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে কো-অপ্ট করার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদের নেতৃত্বে ‘স্টক টেকিং’ কমিটি এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের নেতৃত্বে ‘ব্যবহার সংক্রান্ত’ কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



















